‘মাই ম্যান’ কমিটি গঠন করা যাবে না-ওবায়দুল কাদের।

রবিবার ০৪ অক্টোবর ২০২০, ১৯ আশ্বিন ১৪২৭

সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হলেই নিজেদের লোক দিয়ে নিজস্ব বলয় সৃষ্টির জন্য ‘মাই ম্যান’ কমিটি গঠন করা যাবে না বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।

শনিবার আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সভা শেষে সরকারি বাসভবনে ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।

ওবায়দুল কাদের বলেন, শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে কার্যনির্বাহী কমিটির সভায় বেশকিছু সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। সাংগঠনিক কার্যক্রম আরও সক্রিয় করার জন্য আটটি বিভাগের জন্য কেন্দ্রীয় কমিটির নেতাদের নিয়ে আটটি টিম গঠন করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। মুজিববর্ষে গৃহহীনদের গৃহনির্মাণ কার্যক্রম চলমান। তা সম্পন্ন করা হবে। মুজিববর্ষ উপলক্ষে আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা এক কোটির বেশি বৃক্ষরোপণ করেছে। এই প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকবে।

তিনি আরও বলেন, দলীয় সভাপতি সাংগঠনিক জেলার কমিটি গঠনের ক্ষেত্রে দুর্দিনের ত্যাগী, পরীক্ষিত, নিবেদিত নেতাকর্মীরা যাতে বাদ না পড়েন সেদিকে সবাইকে লক্ষ্য রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হলেই নিজেদের লোক দিয়ে নিজস্ব বলয় সৃষ্টির জন্য ‘মাই ম্যান’ কমিটি গঠন করা যাবে না। সম্মেলনে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে যারা প্রার্থী হয়েছিলেন তাদের মধ্যে যোগ্যতাসম্পন্ন ও পরীক্ষিত নেতাদের ব্যক্তিগত দ্বন্দ্ব বা ক্ষোভের কারণে বাদ দেয়া যাবে না। কোনো অবস্থায় পার্টির অভ্যন্তরে বিতর্কিত লোকদের আশ্রয় ও প্রশ্রয় দেয়া যাবে না।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, তৃণমূলের সব কমিটি সম্মেলনের মধ্য দিয়ে গঠন করতে হবে। ওয়ার্ড, ইউনিয়ন থেকে শুরু করে উপজেলা, থানা শেষ করে জেলা বা মহানগরের সম্মেলন শেষ করতে হবে। সম্মেলনের মাধ্যমে কমিটি গঠন করা হলে মাঠের লোক নেতা হন আর সম্মেলন ছাড়া কমিটি গঠন হলে লবিং বা তদবিরে কিছু লোক নেতা হন।

তিনি আরও বলেন, জেলা কমিটি পূর্ণাঙ্গ করার ক্ষেত্রে আওয়ামী লীগের দায়িত্বপ্রাপ্ত বিভাগীয় টিমের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা তৃণমূলের মত ও অভিযোগসমূহ পর্যালোচনা করবে এবং প্রস্তাবিত কমিটি সম্পর্কিত প্রতিবেদন ও প্রস্তাবনা দলীয় সভাপতির কার্যালয়ে পেশ করবে। সভাপতির নির্দেশনা অনুযায়ী কমিটি অনুমোদ করা হবে।

ওবায়দুল কাদের বলেন, করোনা মহামারি প্রেক্ষাপট বিবেচনায় রেখে সাংগঠনিক কার্যক্রম গতিশীল করার জন্য সীমিত পরিসরে এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে যত দূর সম্ভব উপজেলা, থানা, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সম্মেলন আয়োজন করতে হবে। এছাড়া ইতোপূর্বে যেগুলোর সম্মেলন হয়েছে কিন্তু পূর্ণাঙ্গ কমিটি হয়নি, তারা দ্রুত সময়ের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ কমিটি করবে।

তিনি বলেন, বিশেষজ্ঞদের মতামত অনুযায়ী আগামী শীতে করোনা মহামারির একটা শক্তিশালী আঘাতের আশঙ্কা রয়েছে। এই আশঙ্কা মোকাবিলায় আমাদের সভাপতি শেখ হাসিনা সংগঠনের সব স্তরের নেতাকর্মীদের সতর্ক ও প্রস্তুত থাকার নির্দেশনা দিয়েছেন। পাশাপাশি জনগণের মাঝে সচেতনতা ও জনকল্যাণে কাজ করে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।